লক্ষ্মীপুর   মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০  

শিরোনাম

আঁরা আরাকান যাইয়ুম

নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৩:৩৫ পিএম, ২০২০-০৬-২২

আঁরা আরাকান যাইয়ুম

 

শিশুর জন্মের পরেই তার বাবা-মা চিন্তা করে, পুষ্টি যুক্ত খাবার ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে উঠবে শিশু। এক সময় লেখাপড়া শিখে দেশের সবচেয়ে যোগ্যতম নাগরিক হবে।

কেউ চিন্তা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ,ব্রিগেডিয়ার পুলিশ অফিসার, সাংবাদিক  আইনজীবী  সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তৈরি করার জন্য।
এচিন্তা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং গ্লোবাল নাগরিক অধিকার।
আরাকান রাজ্যে বসবাসকারী আদি ইতিহাস ,ঐতিহ্য ধারণকারী মুসলিমদের এ চিন্তা করতে ইচ্ছে করে না।তাদের চিন্তা অন্য ধরনের।

অপুষ্টিতে জন্মের পরে মৃত্যুর হার 60 ভাগ। তারা শিশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে।তাদের চিন্তা হয় সদস্য সংখ্যা বেশি হলে ,ইউ এন এইচ সি আর, আই ও এম, ইউ এন  ডব্লিউ এফ পি কতৃক  প্রতিদিন কি পরিমান চাউল, চাউল, তেল ,ডিম ,গ্যাস সিলিন্ডার ,কাপড়, পারুটি, ঔষধ ,স্যালাইন ,ত্রিপল  ঘর বাধানোর বাঁস, পলিথিন এগুলো বেশি বেশি পাওয়া যাবে।

মাথাপিছু ত্রাণ সামগ্রী পেতে গেলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি দরকার। সেই ত্রাণ সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা এবং ত্রিপল ও পলিথিন এর নিচে রোদ বৃষ্টির মধ্যে বসে খেয়ে ঘুমানো।
গ্লোবাল যুগে এ চিন্তা সর্বোৎকৃষ্ট মানের। উন্নত বিশ্বে এর চেয়ে আরামদায়ক এবং উন্নত চিন্তা আর কি হতে পারে?
তাদের সকালে উঠে শিশুকে স্কুলে পাঠানোর কোন ব্যস্ততা নেই। নিজে অফিসে যাওয়ার কোন তাড়া নেই।
চাকরি করার কোন সুযোগ নেই। নিজস্ব ভূমি নেই, বাড়ি নেই, ঘর নেই, নাগরিত্ব নে,ই পরিচয় নেই, ভাই বন্ধু স্বজন, সমাজ ,পরিবার দেখাশোনার শক্তি সামর্থ্য কোনটাই নেই। 5 থেকে 105 বছর বয়স হলেও তাদের রাষ্ট্র নেই, অভিযোগ করার জায়গা নেই, অভিযোগ গ্রহনের দরকার নেই। সমাজ, পরিবার ,বৃত্ত  বৈভব লেখাপড়া ,জন্ম মৃত্যু  দাঙ্গা ঝগড়া বিবাদ ,কলহ মারামারি কোন কিছুই তাদের নতুন অনুভূতি দেয় না। তারা আপন মনে মানুষ হয়েও প্রাণীর মতই চলাচল করতে বাধ্য।

আরাকান এ তাদের বাড়ি ছিল, কানি কানি জমি ছিল, ঘরে ছিল, ধান, চাউল  ছিল, গোয়ালে গরু, ছিল পকেটের টাকা,  ছিল পুকুরে মাছ,  ছিল পরিবারের সুন্দর স্ত্রী সন্তান। সমাজে সুন্দর সুন্দর আত্মীয়-স্বজন, এলাকায় উন্নত মানের বন্ধু ছিল।
কারো কারো দোকান ছিল ,ব্যবসা ছিল ,বাণিজ্য ছিল, । অনেকেরই বিদ্যালয় ছিল, গিটার ছিল, সঙ্গীত ছিল, ছিল ভালো সঙ্গ। চুলায় রান্না ছিল ঢেকুর এ চাউল ছিল, ফ্রিজে তরকারি ও মাছ ছিল ,ঘরের নকশা ছিল দরজায় লকআপ ছিল ,মেঝেতে পাপোষ ছিল। চিঠি লেখার ঠিকানা ছিল, পাড়া মহল্লার নাম ছিল, উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম দিগ্বিদিক জ্ঞান ছিল। ছিল না শুধু  ,নাগরিকত্বের  পরিচয়।

এখন যা আছে তাতে  অনেক কিছুই পেয়ে গেছে।
আছে একটি সুন্দর বাথরুম যা মাটি খুঁড়ে তৈরি করা যাতে সকালে প্রায় 20 থেকে 30 জনের লাইন ধরতে হয়। হাতে আছে ঘর তৈরির দা কাস্তে, লোহার রড, যা দিয়ে  নিজেরা নিজেরা প্রায় প্রায়ই মারামারি করতে পারে। ঘরের উপরের ত্রিফলার পলিথিনের ছাউনি, হালকা বাতাসে উড়ে উড়ে জানালার কাজ করে। দুইটি ঘরের মাঝখানে পলিথিনের পর্দা দিয়ে বেড়া লাগানো যাতে করে অনায়াসেই নিজ পরিবারের সবকিছুই অন্য পরিবার দেখতেও  পারে। একটি নিজস্ব জীবন থেকে হারিয়ে, ছিটকে পড়ে শুধুমাত্র দিন রাত্রি যাপনের জন্য অসহ্য যন্ত্রণা ও চাপে তারা বাংলাদেশে এসেছে বলে অনেকেই বলে।

নিষ্ঠুর নির্যাতিত রাষ্ট্রহীন, ভূখন্ড হীন ,সমাজ বিহীন পরিবার ছাড়া নিয়মকানুনের বাইরে ছন্নছাড়া উচ্ছিষ্ট ,উদ্বাস্তু জীবন যাপন করা যে কত নতুন নতুন  পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তার বাস্তব এবং দীর্ঘস্থায়ী উদাহরণ এর সমস্ত মায়ানমার নাগরিক। 

তারা আর যাই করুক কৃতজ্ঞচিত্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে মাদার অব হিউমিনিটি হিসেবে ধারণ এবং লালন করে। মুখে ও অন্তরে এদেশের সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট গভীর কৃতজ্ঞ। তাতে বোঝা যায় তারাও মায়ানমার ফিরে যেতে  চায়,  সীমাবদ্ধতার মধ্যে সাজানো গোছানো নিজস্ব ভূখণ্ড নিজস্ব জীবন চায়।

এসমস্ত উদ্বাস্তু ,ভূমিহীন ,পরিবার ভাঙ্গা, সমাজ হারানো ,রাষ্ট্র বিহীন জীবন্ত মানুষেরা, ত্রিপল এর নিচে অর্থাৎ পলিথিনের নিচে পলিথিন মোড়ানো জীবন যাপন চায়না। সারা দিনে রাতে চিন্তা করে তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য। তাদের অনেকেরই বক্তব্য আরা ত্রিফল'ত মাঝে থাকতে ন চাই। আরা আরাকানত যেতে চাই।
তাদের সে আখাংকা যেন পূরণ হয়।

(কয়েকজন রোহিঙ্গার বক্তব্য থেকে সম্পাদিত )
ইমাউল হক পিপিএম

রিটেলেড নিউজ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমায় চলছে রংতুলিতে সাজানোর কাজ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমায় চলছে রংতুলিতে সাজানোর কাজ

আহাম্মদ কবির (সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি) :   সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ...বিস্তারিত


লক্ষ্মীপুরের লাহারকান্দীতে আ'লীগের বর্ধিত সভা

লক্ষ্মীপুরের লাহারকান্দীতে আ'লীগের বর্ধিত সভা

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি ব্যুরো(রবিন হোসেন তাসকিন) :   দেশের অগ্রগতির ধারা অব্যহত রাখাতে ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১...বিস্তারিত


কুমিল্লায় এক তরুণীকে পাঁচ দিন আটক রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ

কুমিল্লায় এক তরুণীকে পাঁচ দিন আটক রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ

লক্ষ্মীপুর৭১অনলাইন : কুমিল্লায় এক তরুণীকে পাঁচ দিন আটক রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শোভারামপ...বিস্তারিত


আমি শেখ রাসেল বলছি

আমি শেখ রাসেল বলছি

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি ব্যুরো(রবিন হোসেন তাসকিন) :   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জম্মবার্ষিকীতে লক্ষ্মীপুরে “আমি রা...বিস্তারিত


সড়ক নাকি মরন ফাঁদ

সড়ক নাকি মরন ফাঁদ

লক্ষ্মীপুর৭১অনলাইন : সড়ক নাকি মরন ফাঁদ ওয়াবদা খালের আকস্মিক ভাঙ্গনে সৃষ্ট জনদূর্ভোগ নেই কোন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি। হ...বিস্তারিত


মধুপুর পৌরসভার ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে রেহেনা পারভিন সোমার এর ব্যাপক গন সংযোগ

মধুপুর পৌরসভার ৪,৫,৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে রেহেনা পারভিন সোমার এর ব্যাপক গন সংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মধুপুরের পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলার প্...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

হয় মিটার ভাড়া বাদ দিন নতুবা আমাদের জমির ভাড়া দিন (পল্লী বিদ্যুৎ)

হয় মিটার ভাড়া বাদ দিন নতুবা আমাদের জমির ভাড়া দিন (পল্লী বিদ্যুৎ)

স্টাফ রিপোর্টার : শেখ হাসিনার উদ্দ্যেগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। বর্তামানে প্রায়ই অধিকাংশ ঘরে বিদ্যুৎ আছে। প্রতিমাসে দিতে হ...বিস্তারিত


লক্ষ্মীপুরে ডোবা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরে ডোবা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি ব্যুরো(রবিন হোসেন তাসকিন) : লক্ষ্মীপুরে ডোবা থেকে চম্পা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) দু...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর